kirtiman

Just another WordPress.com site

হারানো দিনের নায়িকা অলিভিয়া

সিনেমায় অলিভিয়ার শুরুটাই ছিল নাটকীয়। জহির রায়হান তখন ‘লেট দেয়ার বি লাইট’ নির্মাণের কথা ভাবছেন। চিত্রামোদী মহলের ধারণা জহিরের এ ছবিতে তার শ্যালিকা ববিতাই নায়িকা হবেন। একদিন হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে জহির তার পরের ছবির নায়িকা অলিভিয়ার সাথে মিডিয়ার পরিচয় করিয়ে দিলেন। এটা সত্তর সালের কথা। একে জহির রায়হানের মত পরিচালক, তার আন্তর্জাতিক বাজারের উদ্দেশ্যে বহু ভাষায় নির্মিতব্য ছবির নায়িকা নির্বাচিত হওয়া চাট্টিখানি কথা নয়। ফলে অলিভিয়া সম্পর্কে কৌতূহলী হল সিনেসাংবাদিকরা। ক’দিন বাদেই আবার ‘লেট দেয়ার বি লাইট’ থেকে বাদ পড়লেন অলিভিয়া। এলেন যথারীতি ববিতা। প্রথম ছবি থেকে এই ইন আর আউটের ব্যাপারটা ছিল সত্যই আলোচনা হবার মত বিষয়। এ সুবাদে তার পরিচিতির পরিধিটা বাড়লো। দর্শক তার বিষয়ে আগ্রহী হল। প্রথম ছবি নিয়ে এই কাণ্ড অলিভিয়ার জন্য শাপে বরই হয়েছিল। ততদিনে চিত্রপাড়ার কারো কারো সাথে আলাপ-পরিচয় হল। আর নিজের ছবি থেকে বাদ দেয়া নবাগতা অলিভিয়ার জন্য ছিল জহিরের শুভেচ্ছা-‘আই উইশ হার এ ব্রাইট ফিউচার’। ‘লেট দেয়ার বি লাইট’ প্রসঙ্গে অলিভিয়ার স্মৃতিচারণ থেকে জানা যায়, ‘ছবিটি সর্বাঙ্গ সুন্দর করার জন্য জহির সাহেব সংশ্লিষ্ট সবাইকে তার বাড়িতে ডেকে নিয়ে আলাপ করতেন। নানা নির্দেশ দিতেন এবং আমাদের রিহার্সালও তার বাড়িতেই চলতে থাকে।’ তার মতে, তার আবিষ্কারক জহির রায়হান একজন ‘খাঁটি শিল্পী’ এবং ‘লেট দেয়ার বি লাইট’ তাঁর মনে শিল্পীর অনুভূতি সঞ্চারে সহায়তা করেছে। জীবন চৌধুরী পরিচালিত,’শপথ নিলাম’ বাণীচিত্রে রাজ্জাকের বিপরীতে প্রথম অফার পেলেন। সঙ্গে শুরু হল এস.এম শফির ‘ছন্দ হারিয়ে গেল’র কাজ। দুটি ছবির কোনোটিতেই অলিভিয়া প্রধান নায়িকা নন। ছবিগুলোর সু্যটিং চলাকালে এক ইংরেজি ভাষিণী খ্রিশ্চিয়ান মেয়েকে বাংলা ছবির দর্শক কিভাবে নেন-এ ছিল আলোচনার বিষয়। এ সময় অলিভিয়ার প্রেম-রোমান্স নিয়ে বেশ মেতেছিল পত্রিকাপাড়া। ১৯৭২ সালে পরিচালক এস.এম. শফির সাথে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়ে এ বিষয়ের নিষ্পত্তি ঘটালেও অলিভিয়ার প্রতি দর্শক আগ্রহ কিছুমাত্র কমলো না। দর্শক তাকে প্রথম পর্দায় দেখল মোস্তফা মেহমুদ পরিচালিত ‘জীবন সংগীত’-এ। শুরু থেকেই সিনেপত্রিকাগুলো অলিভিয়াকে নিয়ে লিখতে এবং তার বড় বড় রঙিন ছবি ছাপাতে বেশ ব্যস্ত ছিল। যে সময় আমাদের নায়িকারা পোশাকের ব্যাপারে যথেষ্ট রক্ষণশীল, সেখানে অলিভিয়া মিনি স্কার্ট পরে ফটোগ্রাফারদের সামনে যেতে ভয় পেতেন না। আমাদের প্রতিষ্ঠিত তারকারা যে সমস্ত দৃশ্য বা পোশাকে সাহসী হতেন না, সেখানে অলিভিয়া জানিয়ে দেন, চরিত্র ও দৃশ্যের প্রয়োজনে আমি যে কোনো পোশাক পরতে পারি। প্রথম দিনকার ছবি ‘ছন্দ হারিয়ে গেল’তে অলিভিয়া অতি আধুনিকা। ১৯৭৩-৭৪ সালের দিকে যখন বাংলা সিনেমায় বোম্বেটে ধারার অ্যাকশন এল, সেই প্রবাহে মাসুদ পারভেজের ‘মাসুদ রানা’ ও আজিমের ‘টাকার খেলা’য় অলিভিয়া নতুন মাত্রায় উন্মোচিত। ‘মাসুদ রানা’য় নেগেটিভ রোলে অভিনয় এবং ‘ও রানা, ও সোনা’ গানে অলিভিয়ার নাচ আমাদের সিনেমায় অভিনব। এখানে অলিভিয়ার নৃত্যকলা বোম্বের মুমতাজ, হেলেন প্রমুখ সেকালের হট তারকাদের সমতুল্য। বাংলা সিনেমার নায়িকাদের সনাতনী বেড়া ভেঙ্গে অলিভিয়া এখানে অনেক অ-নেক উদার, খোলামেলা। এই সূত্রে নির্মাতারা তাকে যৌনাবেদনময়ী নায়িকার খোলশে দর্শক মাতাতে প্রয়াসী হলেন। এ প্রসঙ্গে পরিচালক অশোক ঘোষের একটা কথা উল্লেখ করা যায়-‘অলিভিয়া অত্যন্ত গ্ল্যামারস। তবে তার মধ্যে সেক্স অ্যাপিলটাই বেশি।’ ১৯৭৪-এ স্বামী পরিচালিত এস.এম শফির ‘দূর থেকে কাছে’ নতুন অলিভিয়াকে জন্ম দিল। বক্স অফিসকে মাথায় রেখে যে ছবি নির্মাণ, তাতে অলিভিয়া হয়ে উঠছিলেন বাঁধভাঙ্গা যৌবনের প্রতিভূ। ১৯৭৬-এ ইবনে মিজানের ‘বাহাদুর’ অলিভিয়াকে ‘সেক্স বম্ব’ খেতাব পাইয়ে দিল। এ ছবির পোস্টারে নেকাব পরা অলিভিয়ার কথা বললে অনেকেই নস্টালজিক হবেন। একই বছর এস.এম শফির ব্যয়বহুল রঙিন ছবি দি রেইন (যখন বৃষ্টি এল)-এ অলিভিয়া আরো বেশি সজিব, প্রাণবন্ত। নায়ক ওয়াসিমের সাথে এখানে তিনি বেশ উদ্ভাসিত নাচে-গানে, জলকেলীতে। এ সময় অনেক দর্শকের ঘুম হারাম করলেন অলিভিয়া। পরবর্তী ফখরুল হাসান বৈরাগীর সেয়ানা (১৯৭৬) এবং সাইদুর রহমান সাইদের আদালত (১৯৭৭)-এ কি পোশাকে-আশাকে, কি শয্যাকক্ষের অন্তরঙ্গ দৃশ্যে অলিভিয়া আকর্ষণীয়া। ‘সেয়ানা’ ছবির বিজ্ঞাপনে অলিভিয়ার খোলা পিঠে ‘সেয়ানা অলিভিয়া’ শীর্ষক প্রচারণা ছিয়াত্তরে তুমুল বিতর্ক তোলে। অবশ্য অলিভিয়া অন্য কোনো মেয়ের ছবি তার নামে চালিয়ে দেবার অভিযোগ তোলেন। ততদিনে অলিভিয়ার বাহারি পোশাকে নাচ-গান আর ফাইটের ভক্ত বাড়ল। প্রেক্ষাগৃহ থাকত হাউসফুল। একটা সময় এল যখন অলিভিয়া কেবল মারদাঙ্গা ফোক-ফ্যান্টাসি ছবির নায়িকার ইমেজে বৃত্তাবদ্ধ হয়ে পড়লেন। সেই ধারার নির্মাতাদের কাছে অলিভিয়ার কদর হল, যাদের ছবিতে ‘গল্পের গরু আকাশে ওড়ে’। ইবনে মিজান, এফ কবির চৌধুরী, ফখরুল হাসান বৈরাগী, শহীদুল আমিনরা ছিলেন এ ধারায় খ্যাত। দর্শক আর বঙ্ অফিস মাত করাটাই এখানে মুখ্য। নায়িকা অলিভিয়া সম্পর্কে সাপ্তাহিক বিচিত্রা এ সময় লেখে-‘শারীরিক গঠনের দিক থেকে আকর্ষণীয়া হলেও অভিনয়ে আড়ষ্টতা আর উচ্চারণে ত্রুটির জন্য অলিভিয়া সু-অভিনেত্রী হতে পারছেন না।’ ‘দেহবতী’ অলিভিয়া বিষয়ে এ পত্রিকা আরো লেখে, ‘অলিভিয়া অনায়াসে হতে পারেন চলচ্চিত্র রাজ্যের সেক্স কুইন। শরীরগত সম্ভাবনাময় অলিভিয়া এ বিষয়ে অগ্রাধিকার রাখেন।’ কস্টু্যম ছবিতে তার চাহিদা নিয়ে পত্রিকাটির কটাক্ষ, এই ধরনের ছবিতে অভিনয় জানা না জানা বিষয়ে কেউ মাথা ঘামায় না। ১৯৮০ সালের সিনেমা বেদ্বীন (পরিচালক এস.এম শফি) মুক্তির প্রাক্কালে কোনো সমালোচক বলেন, ‘বেদ্বীন অলিভিয়াকে ইন্দ্রিয় সুখকর অভিনেত্রী হিসেবে উন্মোচিত করতে পারে। বেদ্বীন-এর অনেক দৃশ্য সেন্সর ছাড়পত্র পায়নি। এরই মাঝে অলিভিয়া কলকাতায় গিয়ে মহানায়ক উত্তম কুমারের সাথে করে এলেন বহ্নিশিখা (১৯৭৭) ছবিতে কাজ। হলেন ‘বিশ্বজুড়ে চিত্র তারকাদের সৌন্দর্য সাবান’ ইন্টারন্যাশনাল লাঙ্-এর মডেল। গ্ল্যামার সচেতন অলিভিয়া গ্ল্যামার হারানোর ভয়ে মা হবেন না-এ বিষয়টাও সেদিন বেশ মুখরোচক হয়। অলিভিয়ার সর্বাধিক ছবির নায়ক ওয়াসিম। সত্তর-আশিতে বাণিজ্যিক ফোক-ফ্যান্টাসি ছবিতে ওয়াসিম ছিলেন প্রধান নায়ক। আর অলিভিয়ার বিপরীতে ওয়াসিমের বিকল্প ছিল না বললেই চলে। দর্শকও এ জুটিকে বেশ পছন্দ করত। দি রেইন, বাহাদুর, বেদ্বীন, লুটেরা, চন্দ্রলেখা, বুলবুল এ বাগদাদ, শীষনাগ, শাহজাদী গুলবাহার এ জুটির দেশ কাঁপানো ছবি। রাজ্জাক যখন পোশাকি সিনেমা ‘পাগলা রাজা’ বানান, তাতে অলিভিয়াকেই তার বিপরীতে মনোনীত করেন। এছাড়া সোহেল রানা, আলমগীর, বুলবুল আহমেদ, উজ্জ্বল, জাবেদ, জাফর ইকবাল, মাহমুদ কলিরা তার নায়ক ছিলেন। তার অভিনীত অন্য ছবিগুলো হল তীর ভাঙ্গা ঢেউ (১৯৭৬), শাপমুক্তি (১৯৭৬), একালের নায়ক (১৯৭৮), শ্রীমতি ৪২০ (১৯৭৮), কুয়াশা (১৯৭৭)। সামাজিক ছবিতে অলিভিয়ার চাহিদা ছিল না বললেই চলে। ১৯৭৮ এর যাদুর বাঁশি, বন্ধু, আগুনের আলো প্রভৃতি পারিবারিক সিনেমায় অলিভিয়া কেবল বাণিজ্যিক কারণেই আবির্ভূত। ‘যাদুর বাঁশি’তে পরিচালক আবদুল লতিফ বাচ্চু নায়ক অপুর সাথে অলিভিয়ার ‘সাধের দেওরা তুই কবে হইলি পাকা সেয়ানা’ শীর্ষক দেবর-ভাবীর নাচটা সেরে নিয়েছেন। তার অভিনীত মেলট্রেন, প্রেম তুই সর্বনাশী মুক্তি পায়নি। অলিভিয়া অভিনীত সিনেমার অনেক গান দর্শকের মুখে মুখে ফিরেছে সেদিন। ‘বাহাদুর’ সিনেমার ‘রূপে আমার আগুন জ্বলে’। ‘ও সাগর কন্যারে’, ‘দি রেইন’ ছবির ‘একা একা কেন ভালো লাগে না, ‘মনে মনে যৌবনে’, ‘আয়রে মেঘ আয় রে’, ‘বেদ্বীন’ ছবির ‘কথা কেন যে বলিস না’, ‘শীষনাগ’ ছবির ‘না না ছুঁয়ো না’, ‘বুলবুল এ বাগদাদা’ ছবির ‘বুকে আছে মন, মনে রয়েছে তুমি’, ‘শাপমুক্তি’ ছবির ‘ধীরে ধীরে চল ঘোড়া’-গানগুলো একদিন দেশ মাতিয়েছে। এখনো এই গানগুলোর আবেদন আছে। রুনা লায়লা-অলিভিয়া জুটির অনেক গান রেডিও’র অনুরোধের আসরে বারবার বাজতো, হয়তো এখনো বাজে। সত্তরের একেবারে শেষে এবং আশির শুরুতে যথাক্রমে রোজিনা ও অনজুর আগমন অলিভিয়ার সাম্রাজ্যে ধস নামায়। এফ কবির চৌধুরীর রাজমহল (১৯৭৯) দিয়ে রোজিনা এবং সওদাগর (১৯৮২) দিয়ে অনজু অতি অল্প সময়ে ফোক-ফ্যান্টাসি ছবির বাজারটা দখল করে নেন। একটা সময় চিত্র জগতে অলিভিয়ার অবস্থান টিমটিম করে জ্বলা তারার মতন হল। এ সময় বছরে একটি কি কালে ভদ্রে দুটি ছবিতে দর্শক অলিভিয়াকে পেত। অলিভিয়ার ভক্তরা বুঝতে পারতো না, অলিভিয়া সিনেমাতে আছেন, কি সিনেমা ছেড়ে দিলেন। ১৯৮২ সালে অলিভিয়ার একটি মাত্র ছবি ডার্লিং, ‘৮৩তে টক্কর, ‘৮৩তে হিম্মতওয়ালী ও লাল মেমসাহেব মুক্তি পায়। ‘৮৫ তে তার কোনো ছবি মুক্তি পায়নি। ‘৮৪র ছবি ‘হিম্মতওয়ালী’ নিয়েও বেশ চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। ছবির বিজ্ঞাপনের অন্য দুই হিম্মতওয়ালী শাবানা ও অঞ্জনার সাথে অলিভিয়াকে সমান গুরুত্ব দেয়া হলেও প্রেক্ষাগৃহে গিয়ে দর্শক অলিভিয়াকে নায়ক জাবেদের সাথে মাত্র দুটি নাচ-গানের দৃশ্য এবং ছবির শেষের দিকে কিছু ফাইটিংয়ে পায়। অলিভিয়া ছবির পরিচালক অশোক ঘোষের বিরুদ্ধে ‘অশোক আমার সাথে চিট করেছে’ বলে বিষোদগার করলেন। এ সময় অলিভিয়ার অসম্ভব মুটিয়ে যাওয়া নির্মাতাদের বেশ বিপাকে ফেলে। শেষ দিককার ছবি (‘৮৬-৮৭ সালের দিকে) কালা খুন, আগুন পানি, রাস্তার রাজা প্রভৃতিতে অলিভিয়া দর্শক আকর্ষণে সম্পূর্ণ ব্যর্থ। ‘রাস্তার রাজা’র মাহমুদ কলির সাথে তার বেশ কিছু চিত্রায়িত দৃশ্য সেন্সরের কাঁচি কেটে নিয়েছে। এক পর্যায়ে বেকার হয়ে পড়েন অলিভিয়া। তবে অভিনয়ে ব্যস্ততা না থাকলেও শিরোনাম হতে তার কুণ্ঠা ছিল না। আশির শেষের দিকে তার প্রযোজনায় মাসুদ রানা-২ নিয়ে কম তামাশা হয়নি। অলিভিয়া সম্পর্কে একজন চলচ্চিত্রবোদ্ধা বলেছিলেন, ‘চমক বা সেক্স অ্যাপিক দিয়ে বেশিদিন টেকা যায় না। যদি তার সঙ্গে অভিনয় দক্ষতা বা ক্ষমতা না থাকে।’ সে যাই হোক, অলিভিয়া যে ধারায় কাজ করতেন তাতে ছিলেন স্বাচ্ছন্দ্য, উচ্ছ্বল এবং সফলতা। চরিত্রের প্রয়োজনে তিনি সাহসী ছিলেন কিন্তু তাতে আরোপিত কিছু বা নোংরামি ছিল না। বাংলাদেশে বাণিজ্যিক ছবির ইতিহাসে অলিভিয়া আর তার নাচে গানে সমৃদ্ধ ধুমধাড়াক্কা সিনেমাগুলো দেখতে হলে দর্শকের বাঁধভাঙ্গা জোয়ার-সত্য। আর অলিভিয়ার জন্য বিনোদনপ্রয়াসী দর্শক হলে আসত-এটা কিংবদন্তী।

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out /  Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  Change )

Connecting to %s

Information

This entry was posted on March 24, 2012 by .
%d bloggers like this: